34434
page-template/template_concern_page.php

0
page-template/template_concern_page.php

অ্যাকনে ভালগারিস (সাধারণ ব্রণ)(Acne Vulgaris)- কারণ, প্রকারভেদ ও চিকিৎসাপদ্ধতি

Highlights

  • ● অ্যাকনে ভালগারিসে শুধুমাত্র ভারতেই ২০-৩০ কোটি মানুষ ভোগেন।
  • ● এটি ১৫-৪০ বছর বয়সে হতে পারে।
  • ● এর সাধারণ উপসর্গ হলো ফোলা, র্যাশ, ফোঁড়া, ব্রণ, লালচেভাব ও যন্ত্রণা।
  • ● এই রোগের চিকিৎসা হিসাবে অ্যান্টিবায়োটিক, মলম, ক্লিনজার (cleanser), পিল (peel) ও লেজার (laser) ব্যবহার করা হয়।

অ্যাকনে ভালগারিস - অর্থ ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিবরণ

অ্যাকনে ভালগারিস ত্বকের তৈলগ্রন্থীর রোগ। ত্বকের তৈলগ্রন্থী যখন অতিরিক্ত সেবাম (sebum), যা ত্বকের প্রাকৃতিক তেল, তৈরি করে তখন তা হেয়ার ফলিকলের (hair follicle) মুখ আটকে দেয়। এর উপরে জড় হওয়া ময়লা ও ত্বকের মৃত কোষের ফলে ধীরে ধীরে ত্বকে প্রদাহ ও লালচেভাব দেখা দেয়।

অ্যাকনের বিভিন্ন রূপ আছে যেমন হোয়াইটহেড (whitehead), ব্ল্যাকহেড (blackhead), পুঁজ জমা পাশ্চুল (pustule), ফোলা প্যাপুল (papule), ফাঁপা সিস্ট (cyst) ও শক্ত নডিউল (nodule); সাধারণভাবে সবগুলিকেই বলা হয় ব্রণ। এগুলি দেহের বিভিন্ন অংশে হতে পারে যেমন মুখ, গলা, কাঁধ এবং পিঠ। এই ব্রণগুলি ত্বকের মসৃণতা নষ্ট করে এবং প্রদাহ বা ক্ষতচিহ্নের সৃষ্টি করতে পারে।

ব্রণর প্রকারভেদ ও শ্রেণীবিন্যাস

চর্মবিশেষজ্ঞরা ব্রণকে প্রকৃতি, তীব্রতা ও অবস্থানের ভিত্তিতে নিম্নলিখিত শ্রেণীতে ভাগ করেন-

  • গ্রেড ওয়ান (grade one)- এতে থাকে ব্ল্যাকহেড, হোয়াইটহেড ও কয়েকটি প্যাপুল।
  • গ্রেড টু (grade two)- বেশ কিছু প্যাপুল ও পাশ্চুল, বড় ব্ল্যাকহেড ও হোয়াইটহেড।
  • গ্রেড থ্রি (grade three)- এর মধ্যে পড়ে অনেক প্যাপুল, পাশ্চুল ও মাঝে মাঝে প্রদাহযুক্ত নডিউল।
  • গ্রেড ফোর (grade four)- বেশ কিছু বড় ও যন্ত্রণাদায়ক পাশ্চুল, নডিউল, বড় সিস্ট এবং অ্যাবসেস (abscess)।

নিচে বিভিন্ন ধরণের মুখের ব্রণর ছবি দেখুন:

whitehead acne on nose
blackheads on nose
papules acne
pustules acne
cystic acne vulgaris
nodular acne vulgaris

অ্যাকনে (ব্রণ) ভালগারিসের কারণ

অভ্যন্তরীণ কারণ- শরীরের ভিতরের যে কারণগুলির জন্য অ্যাকনে (ব্রণ) ভালগারিস হতে পারে তা হল-

  • বংশগত- অ্যাকনে (ব্রণ) হওয়ার ঝুঁকির পিছনে বড় ভূমিকা আছে জেনেটিক্স-এর (genetics)। আপনার মা-বাবার মধ্যে কারুর ব্রণ হয়ে থাকলে আপনারও হতে পারে।
  • হরমোন (hormone)- পিসিওএস (PCOS) জাতীয় কিছু রোগের ফলে হওয়া হরমোনের তারতম্য তৈলগ্রন্থী থেকে বেশি সেবাম তৈরি করে, যার ফলে ব্রণ বেরোয়। কিছু ব্রণ মাসিকের সময়, গর্ভাবস্থায় ও মেনোপজের (menopause) সময় দেখা যেতে পারে।

বাহ্যিক কারণ-বেশ কিছু পরিবেশজনিত ও জীবনশৈলীর সম্পর্কিত কারণে ত্বকের ক্ষতি হয়ে ব্রণর বাড়াবাড়ি দেখা যেতে পারে। এর মধ্যে পড়ে-

  • স্ট্রেস (stress)- মানসিক বা শারীরিক চাপের কারণে তৈলগ্রন্থী তেল সৃষ্টি বাড়িয়ে দিতে পারে যাতে অতিরিক্ত সেবাম বেরোবে।
  • ওষুধ- যে ওষুধে অ্যান্ড্রোজেন (androgen), স্টেরয়েড (steroid), ডিএইচইএ (DHEA) বা লিথিয়াম (lithium) জাতীয় উপাদান থাকে তাদের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসাবে ব্রণ দেখা দিতে পারে।
  • খাদ্যাভ্যাস- উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (glycemic index) যুক্ত খাবার খেলে ব্রণ হতে পারে।
  • কসমেটিক (cosmetic) দ্রব্যের ভুল ব্যবহার- ত্বকের ও মেকআপের সামগ্রীতে কিছু রাসায়নিক থাকে যা গ্রন্থীর মুখ আটকে দিতে পারে, যার ফলে ব্রণ হতে পারে। এছাড়া শক্ত স্ক্রাব (scrub) ও এক্সফোলিয়ান্ট (exfoliant) ব্যবহার করলে ত্বকের এপিডার্মিস (epidermis) স্তরের ক্ষতি হয়-তাতেও ব্রণ হতে পারে।

ব্রণ বেরোনোর প্যাথোফিজিওলজি (pathophysiology) কি?

ব্রণ দেখা যায় ৪টি প্রাথমিক ব্যাপারের পারস্পরিক প্রতিক্রিয়ার জন্য, যা ব্রণের তীব্রতা ও পরিমাণ নির্ধারণ করে।

  • অতিরিক্ত সেবাম তৈরি হয়ে ব্রণ বেরোনো বিশেষতঃ শরীরের যে জায়গায় তৈলগ্রন্থীর সংখ্যা বেশি যেমন মুখ ও গলা।
  • অতিরিক্ত সেবাম ও ত্বকের কেরাটিনোসাইট (keratinocyte) কোষ জমে ফলিকলের মুখ আটকে যাওয়া।
  • পি. অ্যাকনে (P. acne) জীবাণুর ব্যাকটেরিয়াল প্রতিক্রিয়ার ফলে ফলিকলে এই জীবাণুর প্রবেশ করা।
  • শরীরের প্রতিরক্ষা শক্তির দ্বারা তৈরি বেশ কিছু প্রদাহকর দ্রব্য (inflammatory mediators) ত্বকে ব্রণ ও প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে।

ব্রণর লক্ষণ ও উপসর্গ

অ্যাকনে ভালগারিসের কিছু সাধারণ লক্ষণ ও উপসর্গ হল-

  • আটকে যাওয়া পোরস (pores) যা সাদা বা স্বচ্ছ হয়
  • ফোলা ও র‍্যাশের জন্য লালচেভাব ও প্রদাহ
  • পুঁজ ভরা ব্রণ যাতে ছোঁয়া লাগলে ব্যথা করে
  • ক্ষতচিহ্ন ও পিগমেন্টেশন (pigmentation)
  • গভীর অ্যাবসেসযুক্ত সিস্ট

একজন চর্মবিশেষজ্ঞ কিভাবে ব্রণ চিহ্নিত করেন?

ব্রণ চিহ্নিত করা হয় উপরে লেখা সাধারণ লক্ষণ ও উপসর্গের সাহায্যে। একজন চর্মবিশেষজ্ঞ ভালোভাবে কারণগুলি খতিয়ে দেখে উপযুক্ত চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেন। একটি প্রাথমিক পরীক্ষার সাহায্যে আমরা রোগের প্রকৃত কারণগুলি নির্ধারিত করতে পারি (উদাহরণ: হরমোন, খাদ্যাভ্যাস, ওষুধ ইত্যাদি)। এরপর চর্মবিশেষজ্ঞ ব্রণর তীব্রতা ও ব্যাপ্তি নির্ধারণ করবেন (হালকা, মধ্যম, গুরুতর) যাতে আপনার উপযুক্ত চিকিৎসাপদ্ধতি ঠিক করা যায়।

আপনার কি ঝুঁকি আছে?

শুধু ভারতেই বছরে ১ কোটির বেশি ব্রণর রোগী পাওয়া যায়। যাদের পরিবারে ব্রণ হওয়ার ইতিহাস আছে বা যাদের হরমোনের সমস্যা আছে যেমন পিসিওএস এবং যারা বয়ঃসন্ধি, গর্ভাবস্থা বা মেনোপজের মধ্যে দিয়ে আছে তাদের ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আপনি যদি স্ট্রেস, চিন্তার মধ্যে থাকেন বা ত্রুটিপূর্ণ জীবনশৈলী অনুসরণ করে চলেন তবে আপনার ব্রণ হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। ব্রণ বেরোলেই চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাহায্য নিন যাতে ভবিষ্যতে ক্ষতচিহ্ন বা পিগমেন্টেশন হওয়া এড়ানো যায়।

প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

  • একটি হালকা ক্লিনজার দিয়ে দিনে দুবার ভালোভাবে মুখ পরিষ্কার করুন, বিশেষতঃ যদি ব্যায়াম করে ঘেমে গিয়ে থাকেন।
  • উগ্র রাসায়নিক যুক্ত মেকআপ বা ত্বকের যত্নের সামগ্রী এড়িয়ে চলুন। এগুলির উপর নন-কমেডোজেনিক (non-comedogenic) ও অয়েল-ফ্রি (oil-free) লেখা লেবেল খুঁজে দেখুন।
  • ব্রণ টিপবেন বা খুঁটবেন না, এতে প্রদাহ বেড়ে ক্ষতচিহ্ন সৃষ্টি হতে পারে।
  • রোদে বেরোনোর আগে সবসময় একটি সানব্লক ক্রীম (sunblock cream) মুখে লাগিয়ে নিন, বৃষ্টির দিনেও।
  • সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন এবং প্রতি সপ্তাহে বালিশের ওয়াড় পরিবর্তন করুন।
  • বেশি করে জল খেয়ে আর্দ্রতা বজায় রাখুন, এতে শরীরের টক্সিন (toxin) বেরিয়ে যায় এবং ব্রণও কম হয়।

নিজের যত্ন নিজে করা সম্ভব?

নিজে যত্ন নিলে সাময়িক ভাবে সমস্যা দূর হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নাও হতে পারে বিশেষতঃ একটু মধ্যম বা গুরুতর ব্রণর ক্ষেত্রে, যাতে ক্ষতচিহ্ন হতে পারে।

অ্যাকনে ভালগারিসের চিকিৎসা

হালকা থেকে গুরুতর ব্রণর ক্ষেত্রে এই নিম্নলিখিত চিকিৎসাগুলি করা যায়:

ওষুধভিত্তিক চিকিৎসা

  •  টপিকাল (লাগানোর) রেটিনয়েড
  • টপিকাল (topical) অ্যান্টিবায়োটিক
  • মুখে খাওয়ার ওষুধ

ব্রণ দূর করার প্রক্রিয়া

  • ইন্ট্রালিশনাল ইনজেকশন (intralesional injection)
  • হরমোনাল চিকিৎসা
  • কেমিক্যাল পিল (chemical peel)
  • লেজার (laser) চিকিৎসা

এখানে দেওয়া ভিডিওটি দেখে অলিভা স্কিন ও হেয়ার ক্লিনিকের অত্যাধুনিক ব্রণ চিকিৎসার ব্যাপারে বিস্তারিত জানুন।

আরোগ্যসম্ভাবনা (prognosis)

সাধারণতঃ টিনএজের (teenage) ব্রণ ২৫ বছর বয়সের আশেপাশে কমে যায়। প্রাপ্তবয়স্ক ব্রণ, ৪০ বছর বয়স অবধি মহিলাদের মধ্যে যা পাওয়া যায়, তার সঠিক মূল্যায়ন ও চিকিৎসার প্রয়োজন। অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হালকা থেকে মধ্যম তীব্রতার ব্রণতে ভোগেন, যাকে আরো গুরুতর হয়ে ওঠা থেকে আটকাতে সময়মত চিকিৎসা করা উচিত। ব্রণ প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা না করা হলে ভবিষ্যতে ক্ষতচিহ্ন দেখা দিতে পারে।

Want a callback?Please fill this form

Subscribe to Newsletter

Expert guide to flawless skin and nourished hair from our dermatologists!