33661
page-template/template_concern_page.php

0
page-template/template_concern_page.php

অ্যালোপেশিয়া (Alopecia)(চুল পড়া): কারণ, উপসর্গ ও সমাধান

Highlights

  • ● চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় চুল পড়াকে বলে অ্যালোপেশিয়া।
  • ● একটি গবেষণায় দেখা গেছে ৩০-৫০ বছর বয়সের প্রায় ৫৮% পুরুষরা কোনো না কোনো অ্যালোপেশিয়ায় ভুগছেন।
  • ● ২০-২৯ বছর বয়সী মহিলাদের মধ্যে ১২% চুল পড়ার সমস্যায় ভোগেন।
  • ● চুল পড়ার প্রধান কারণ বংশগত বা জেনেটিক।
  • ● সৌভাগ্যবশত চুলবিজ্ঞানে এখনকার উন্নতির ফলে বেশি চুল পড়ে গেলেও চিকিৎসা সম্ভব।

চুল পড়া কি?

অ্যালোপেশিয়া অর্থে চুল পড়া, সেটি আংশিক বা সম্পূর্ণ, অল্প জায়গায় সীমাবদ্ধ বা বিস্তীর্ণ হতে পারে এবং অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক কারণে হতে পারে। সাধারণতঃ দিনে আমাদের ১০০টা চুল পড়ে, কিন্তু যদি আপনি তার চেয়ে বেশি চুল পড়তে দেখেন (১২০-১৫০ বা আরও বেশি) বা মাথার ত্বকের কোনো জায়গা খালি হয়ে যেতে দেখেন, তবে আপনার তখনই চুলের ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

চুল পড়ার শ্রেণীভেদ

বিশেষজ্ঞ চুলের ডাক্তাররা চুল পড়াকে নিম্নলিখিত শ্রেণীতে ভাগ করেন:

অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেশিয়া (androgenetic alopecia)(বয়সজনিত চুল পড়া) – এটি অনেক লোকের হয়, মহিলা ও পুরুষ উভয়েই এই রোগের শিকার হতে পারেন। এটি খুব তাড়াতাড়ি শুরু হতে পারে যেমন টিনএজ (teenage) বয়সে, এবং বয়সের সাথে এর ঝুঁকি বেড়ে যায়।

মেল প্যাটার্ন বল্ডনেস (male pattern baldness) – একটি বিশেষ বিন্যাস অনুযায়ী চুল পড়া শুরু হয়, প্রথমে কপালের দুই পাশ থেকে (temple areas)। সময়ের সাথে হেয়ারলাইন (hairline) পিছিয়ে ‘এম/M’ আকৃতি ধারণ করে। ব্রহ্মতালুর (crown area) চুলও পাতলা হয়ে আংশিক বা পুরো ফাঁকা হয়ে যেতে পারে।

ফিমেল প্যাটার্ন বল্ডনেস (female pattern baldness) – এতে চুল মাথার উপরের দিক থেকে ফাঁকা হওয়া শুরু হয়, এবং মাঝখানের সিঁথি ক্রমশঃ চওড়া হয়ে যায়। তবে হেয়ারলাইন পিছোয় না। কখনও কখনও পুরো মাথায় টাক পড়ে যেতে পারে।

● টেলোজেন এফ্লুভিয়াম (telogen effluvium)- এটি সারা মাথা জুড়ে চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। কোনও একটি ঘটনার ফলে ৩ মাস পরে শুরু হয়, এবং মাস ছয়েকের মধ্যে সাধারণতঃ নিজেই কমে যায়।

অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটা (alopecia areata) – এই ধরণের চুল পড়াতে মাথার ত্বকের কিছু বিক্ষিপ্ত জায়গায় গোল করে টাক পড়ে যায়, কিন্তু বাকি চুল স্বাভাবিক থাকে। তবে অনেকসময় পরে পুরো মাথাতেই টাক পড়ে যেতে পারে। এতে শরীরের প্রতিরক্ষা শক্তি দেহের সুস্থ টিস্যুর (tissue) ক্ষতি করে তাকে নষ্ট করে দেয়।

ট্রাইকোটিলোম্যানিয়া (trichotillomania) – এই রোগে বারবার চুল ধরে টানার ফলে চুল পড়ে যায়। ডাক্তাররা এই রোগকে ঝোঁক নিয়ন্ত্রণ রোগের (impulse control disorder) তালিকায় ফেলেন।

ইনভল্যুশনাল অ্যালোপেশিয়া (involutional alopecia) – স্বাভাবিক বয়সবৃদ্ধির জন্য যে চুল পড়া। এর মূল কারণ হল চুলের বৃদ্ধির অ্যানাজেন (anagen) পর্বটির সময় হ্রাস পাওয়া। এতে যত তাড়াতাড়ি চুল পড়ে, অত তাড়াতাড়ি নতুন চুল গজিয়ে উঠতে পারেনা।

স্কারিং অ্যালোপেশিয়া (scarring alopecia) – একে সিকাট্রিশিয়াল অ্যালোপেশিয়াও (cicatricial alopecia) বলা হয়। এটি খুব বেশি দেখা যায় না। এতে বিভিন্ন অসুখের ফলে মাথার ত্বকে প্রদাহ বা ক্ষতচিহ্ন তৈরি হয়ে নতুন চুল গজানোর স্বাভাবিক ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।

প্যাথোফিজিওলজি

হেয়ার গ্রোথ সাইকেলে (hair growth cycle) সমস্যা হওয়ার ফলে চুল পড়ে। চুলের বৃদ্ধির এই নিম্নলিখিত পর্যায়গুলি থাকে:

১. অ্যানাজেন বা সক্রিয় বৃদ্ধির পর্যায় (২-৭ সপ্তাহ)

২. ক্যাটাজেন বা রূপান্তরের পর্যায় (১-২ সপ্তাহ)

৩. টেলোজেন বা বিশ্রামের পর্যায় (৫-১২ সপ্তাহ)

মোটামুটিভাবে, মাথার সুস্থ ত্বকে ৯ থেকে ১০% চুল টেলোজেন পর্যায়ে থাকে। অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেশিয়াতে চুল ক্রমাগত ছোট ও পাতলা হয়ে (miniaturisation) যেতে থাকে, এবং চুলের ফাঁক দিয়ে ত্বক দেখা যেতে থাকে। অ্যানাজেন পর্যায় ছোট হয়ে যায় এবং টেলোজেন পর্যায় লম্বা হয়ে যায়। শেষে চুল পড়ে মাথা ফাঁকা হয়ে যায়।

চুল পড়ার কারণ:

চুল পড়া শুরু হওয়ার পিছনে অনেক কারণ থাকতে পারে, যেমন:

বংশগত – পরিবারে কারুর চুল পড়ার ইতিহাস থাকলে আপনারও অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেশিয়া হওয়ার সম্ভাবনা হতে পারে। পুরুষরা টাক পড়া বা হেয়ারলাইন পিছিয়ে যাওয়া লক্ষ্য করতে পারেন, এবং মহিলারা সিঁথি চওড়া হয়ে যাওয়া ও চুলের ফাঁক দিয়ে মাথার ত্বক দেখা যাওয়ার সমস্যায় ভুগতে পারেন।

হরমোনের সমস্যা – গর্ভাবস্থা বা মেনোপজের (menpause) সময় হরমোনের তারতম্যর ফলে চুল পড়া শুরু করতে পারে। এছাড়া গর্ভনিরোধক বড়ি (birth control pill) খেলে, প্রসবের পরে বা হিস্টারেক্টমি (hysterectomy-গর্ভাশয় কেটে বাদ দেওয়া) হলে অ্যানাজেন পর্যায়টি ছোট হয়ে গিয়ে চুল পড়তে পারে। ইনসুলিন রেসিস্টেন্স (insulin resistance) আরেকটি কারণ। পুরুষদের ক্ষেত্রেও চুল পড়ার পিছনে হরমোনের তারতম্য থাকতে পারে।

ভুল জীবনশৈলী (lifestyle) – স্ট্রেস, বাজে খাদ্যাভ্যাস, অপুষ্টি এবং ভুল জীবনশৈলী অনুসরণের কারণে চুল পড়তে পারে।

ওষুধ – ক্যান্সারের কেমোথেরাপি (chemotherapy) চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসাবে চুল পড়তে পারে।

টেনে চুল বাঁধা ও চুলে রাসায়নিক চিকিৎসা করানো (chemical treatment) – টেনে চুল বাঁধা যেমন ঝুঁটি (ponytail) বাঁধার ফলে হেয়ার ফলিকলে টান পড়ে চুল পড়া বেড়ে যেতে পারে। ব্লিচ, রং দিয়ে চুলের রাসায়নিক চিকিৎসা করালে চুল সাময়িক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে যেতে পারে।

অন্যান্য কারণ – অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত কারণের মধ্যে পড়ে দীর্ঘস্থায়ী অসুখ যেমন থাইরয়েডের রোগ, লুপাস (lupus) এবং পলিসিস্টিক ওভারিয়ান ডিজিজ (পিসিওডি)(polycystic ovarian disease-PCOD)। ক্র্যাশ ডায়েট (crash diet), চিন্তায় নিয়মিত চুল টানা বা মাথা চুলকানোর অভ্যাস, দ্রুত ওজন কমানো, ইনফেকশন (infection), চুলের রঙে অ্যালার্জি, চুলের কসমেটিক্স (cosmetics), সেবোরিক ডার্মাটাইটিস (seborrheic dermatitis) বা সোরিয়াসিস (psoriasis) জাতীয় রোগের কারণে হঠাৎ করে চুল পড়া শুরু হতে পারে।

লক্ষণ ও উপসর্গ

● ক্রমাগত অতিরিক্ত চুল পড়া।
● ব্রহ্মতালুর চুল পাতলা হয়ে যাওয়া।
● গোলাকৃতি আকারে বিভিন্ন জায়গায় টাক পড়া।
● ফাঙ্গাল ইনফেকশনের (fungal scalp infection) জন্য হঠাৎ করে চুল উঠে যাওয়া, সঙ্গে ব্যথা বা চুলকানি।
● বিক্ষিপ্ত ভাবে চুল গজানো।
● ‘এম/M’ আকারে হেয়ারলাইন ক্রমশঃ পিছিয়ে যাওয়া।

চিহ্নিত করা (diagnosis)

চুলের বিশেষজ্ঞরা চুল পড়ার কারণে চিহ্নিত করতে মেডিক্যাল হিস্ট্রি (medical history), খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ, এবং ট্রাইকোস্কোপির (trichoscopy) সাহায্য নেন। খুব বেশি চুল পড়ার কারণে নিয়ে সন্দেহ থাকলে আপনার ডাক্তার বায়োপসি (biopsy) করার পরামর্শ দিতে পারেন যাতে একটি উপযুক্ত চিকিৎসাপদ্ধতি নির্দিষ্ট করা যায়।

আপনার কি ঝুঁকি আছে?

সাধারণতঃ পরিবারে কারুর ইতিহাস থাকলে পুরুষদের টাক পড়ার সমস্যায় ভোগার সম্ভাবনা থাকে। মহিলাদের যদি গর্ভধারণ, মেনোপজ, গর্ভনিরোধক বড়ি সেবন বা পিসিওডির সমস্যার জন্য হরমোনের তারতম্য হয় তবে তাদেরও হঠাৎ করে চুল পড়া শুরু হতে পারে।

প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

চুল পড়া রুখতে নিম্নলিখিত সহজ টিপস (tips) গুলি অনুসরণ করতে পারেন:
● উগ্র রাসায়নিক দেওয়া সামগ্রী চুলে লাগাবেন না। তাপ দিয়ে চুল স্টাইল (style) করার সরঞ্জাম যেরকম স্ট্রেটনার (straightener) বা পার্মিং আয়রন (perming iron) ব্যবহার করবেন না।
● একটি সুস্থ চুল পরিচর্যার রুটিন (routine) মেনে চলুন এবং একটি হালকা শ্যাম্পু দিয়ে সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার চুল পরিষ্কার করুন। কতবার শ্যাম্পু করা উচিত তা আপনার চুলের প্রকৃতি ও ময়লা এবং পলিউশন চুলে কতটা প্রভাব ফেলছে তার উপর নির্ভর করে।
● প্রয়োজনীয় নিউট্রিয়েন্ট (nutrient) ও ভিটামিন যেমন আয়রন, ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি, প্রোটিন আর ভিটামিন ই সহ একটি ব্যালান্সড ডায়েট (balanced diet) খান।
● একটি সুস্থ জীবনশৈলী মেনে চলুন। নিয়মিত ব্যায়াম, যোগাসন এবং মেডিটেশন (meditation) করে চাপমুক্ত জীবন উপভোগ করুন।
● এমনভাবে চুল বাঁধবেন না যাতে চুলের গোড়ায় বেশি টান পড়ে।

 

নিজে যত্ন নেওয়া

নিজে যত্ন নিয়ে সাময়িক ভাবে সমস্যাটি ঠেকিয়ে রাখতে পারেন, তবে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান এভাবে সম্ভব না।

অলিভায় লভ্য চিকিৎসাপদ্ধতি

আমাদের ডাক্তাররা এই রোগের চিকিৎসায় যে বিকল্পগুলি অনুসরণ করেন তা হল:

● মুখে খাওয়ার ওষুধ
● লাগানোর (topical) ওষুধ
● চুল পুনর্বৃদ্ধি চিকিৎসা
● হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট (hair transplant)

আরোগ্যসম্ভাবনা (prognosis)

চুল পড়ার পিছনে কোন বিশেষ অসুখ থাকলে সেটি থামিয়ে নতুন চুল গজানো সম্ভব। অন্যদিকে বংশগত চুল পড়ার রোগ সহজে সারানো যায়না, এতে অত্যাধুনিক এস্থেটিক (aesthetic) প্রক্রিয়ার সাহায্য লাগে। যত আগে চিকিৎসা শুরু করা যাবে, হারানো চুল ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি। সবচেয়ে নিরাপদ হল একজন চর্মবিশেষজ্ঞর পরামর্শ নিয়ে নিজের চিকিৎসার সেরা বিকল্পটি খুঁজে বের করা। আপনার চুল পড়ার কারণটি চিহ্নিত করা কিন্তু চিকিৎসার পরিকল্পনা করার জন্য অপরিহার্য।

Want a callback?Please fill this form


Subscribe to Newsletter

Expert guide to flawless skin and nourished hair from our dermatologists!